বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

ads asd asd as

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), বারডেম জেনারেল হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হিসাব বলছে, তিনটি হাসপাতালেই পুরুষের তুলনায় নারীদের শয্যা কম। অথচ নারীরা অন্তর্বিভাগে ভর্তি থেকে পুরুষের তুলনায় বেশি সেবা নেন। অবশ্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে কয়েকজন পুরুষ বেশি চিকিৎসা করিয়েছেন।

বিএসএমএমইউর আটটি বিভাগে পুরুষের জন্য শয্যা আছে ২৪৮টি, তার বিপরীতে নারীর জন্য ১৮৯টি। ২০১৬ সালে হাসপাতালে ভর্তি থেকে প্রায় ১৮ হাজার নারী রোগী সেবা নিয়েছেন। আর এ সময় পুরুষ রোগীর সংখ্যা ছিল ১৩ হাজারের কম। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও শয্যা বরাদ্দের ক্ষেত্রে একই প্রবণতা রয়েছে।

আবার বারডেম জেনারেল হাসপাতালের ৫৭২টি শয্যার মধ্যে পুরুষের ২৪৭টি, নারীর ২০৮টি। অথচ অন্তর্বিভাগ এবং বহির্বিভাগ—উভয় ক্ষেত্রেই নারীরা বেশি সেবা নিয়েছেন। এমনকি নিবন্ধিত ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্য নারীর সংখ্যা বেশি।

বারডেমের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শহিদুল হক মল্লিক প্রথম আলোকে বলেন, হাসপাতালগুলো তৈরির সময় খুব কমসংখ্যক নারী চিকিৎসা নিতে আসতেন। এখন নারী রোগীর সংখ্যা বাড়লেও পুরোনো অবকাঠামোর কারণে শয্যা বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে নতুন অবকাঠামোয় নারীদের সেবার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষায়িত হাসপাতালে সুযোগ আরও সীমিত

লালমনিরহাটের আফরোজা বেগম (৫৩) দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও কিডনির সমস্যায় ভুগছেন। তাঁর সঙ্গে কথা হয় জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট এবং হাসপাতাল প্রাঙ্গণে। তাঁকে ভর্তির জন্য বলা হলেও শয্যা-সংকটের কারণে দুদিন পরে আসতে বলেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাঁর মেয়ে সোমা ইসলাম বলেন, ‘পরিবারে নারীদের স্বাস্থ্যের গুরুত্ব
 নেই। হাসপাতালে আনতে অনেকে দেরি করে। হাসপাতালে নেওয়ার পরও যথাযথ গুরুত্ব পায় না।’

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতাল, জাতীয় হৃদ্‌রোগ ফাউন্ডেশন অ্যান্ড হাসপাতালের হিসাব অনুযায়ী, তিনটি হাসপাতালেই নারীদের জন্য ব্যবস্থা পুরুষের তুলনায় কম। এমনকি যেসব রোগে নারীদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি, সেসব ক্ষেত্রেও পুরুষের জন্য বেশি সুবিধা রাখা আছে।

kkkkke terlle rter

২০১৬ সালের জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের এক জরিপে দেখা যায়, ৩৭ শতাংশ নারী কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। এর বিপরীতে পুরুষদের এ সমস্যায় আক্রান্তের হার ২৭ শতাংশ। বাংলাদেশ জার্নাল অব মেডিসিনের ‘রিস্ক ফ্যাক্টরস অব সুইসাইড অ্যান্ড প্যারা সুইসাইড ইন রুরাল বাংলাদেশ-২০১৩’ শীর্ষক গবেষণা বলছে, বাংলাদেশে ২০ থেকে ৩৯ বছর বয়সী মানুষের আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। তাঁদের মধ্যে ৬১ শতাংশই নারী।