দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন

১৯৯২ সালে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দের খোর্দ মুরাদপুরসহ পুরো ইউনিয়নে বাল্যবিবাহের হার ছিল ৯৬ শতাংশের ওপর। বর্তমানে তা কমে এসে দাঁড়িয়েছে ৫ শতাংশে। এর পেছনে কাজ করছে ১৯৯২ সালে এলাকার যুবকদের গঠন করা ‘রোকেয়া ব্রিগেড’। এই ব্রিগেড এখনো বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কাজ করছে।
ময়মনসিংহের নান্দাইলের অষ্টম ও নবম শ্রেণির সাত ছাত্রী বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গত বছর গড়ে তুলেছে ‘ঘাসফুল’ সংগঠন। এ বছরও এই সংগঠন তৎপর ছিল।

বরগুনার সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের মাইঠা গ্রামের সাজেদা আক্তারের প্রচেষ্টায় এলাকার ১০৭টি বাল্যবিবাহ বন্ধ হয়েছে। সাজেদা আক্তার চলতি বছর ‘ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেনস পিস প্রাইজ’-এর জন্য বাংলাদেশ থেকে মনোনয়ন পেয়েছে। এই পুরস্কার শিশুদের নোবেল হিসেবে খ্যাত। ২০১৩ সালে এই পুরস্কার পেয়েছিলেন পাকিস্তানের মালালা ইউসুফজাই।

গত বছর ঝালকাঠির কিশোরী শারমিন আক্তার বান্ধবীর সহায়তায় মায়ের বিরুদ্ধে মামলা করে নিজের বাল্যবিবাহ বন্ধ করেছিল। চলতি বছর সে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘ইন্টারন্যাশনাল উইমেন অব কারেজ ২০১৭ ’ পুরস্কার পেয়েছে।

প্রশাসনের উদ্যোগ
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জরিমানা, কারাগারে পাঠানোসহ নানা রকম ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন। গত ৪ অক্টোবর সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিয়ের আয়োজন চলছিল। প্রশাসনের গাড়ির আলো দেখেই পালাতে শুরু করলেন বর ও বরযাত্রীরা। থেমে যায় বিয়ের সব আয়োজন।
কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকন্দ মোহাম্মদ ফয়সাল উদ্দীন বন্ধ করেন এই বাল্যবিবাহ। ১৮ বছরের আগে মেয়ের বিয়ে দেবেন না বলে মুচলেকা দেন মেয়ের বাবা। দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন এভাবে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করে চলেছে।

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের বিধিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পথে। সংশ্লিষ্টরা বলছে, বিধিমালা তৈরি হলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে তা কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, সরকার শুধু বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন করেই বসে থাকেনি, কিশোর-কিশোরীদের ক্লাব পরিচালনা, কিশোরীদের ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সিলেট বিভাগসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাকে বাল্যবিবাহমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার এ ব্যাপারে আন্তরিক বলেই