- InfobdNews - https://infobdnews.com -

চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্তঃ চার ভাগের তিন ভাগই পুরুষ

চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে বেশি। শনাক্ত ও মৃতদের তিন-চতুর্থাংশই পুরুষ। আক্রান্তদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে শহরের মানুষের সংখ্যা বেশি।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন কাজে এবং গণপরিবহন ও জনসমাগমের স্থানে পুরুষদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি হওয়ায় তাদের আক্রান্ত হওয়ার হারও বেশি।

আর শনাক্তদের মধ্যে ৭২ শতাংশই নগরীর বাসিন্দা এবং মৃত একশ জনের মধ্যে ৮১ জন শহর এলাকার অধিবাসী।

উপজেলার তুলনায় শহরে জনঘনত্ব অনেক বেশি হওয়াকেই এর কারণ বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসেব মতে, মঙ্গলবার পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় চার হাজার ১৬৭ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

এর মধ্যে তিন হাজার ১২১ জনই পুরুষ। আর নারী রোগী শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৪৬ জন। শতকরা হিসেবে শনাক্তদের মধ্যে ৭২ শতাংশই পুরুষ।

শনাক্ত পুরুষদের মধ্যে ৮৮০ জন (২৮ শতাংশ) ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী, ৭২৯ জন (২৩ শতাংশ) ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী ও ৫৫৮ জন (১৮ শতাংশ) ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী।

এছাড়া ৪৪২ জন (১৪ শতাংশ) ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সী ২৭৮ জন (৯ শতাংশ) পুরুষ কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

নারীদের মধ্যে ২৭৭ জন (২৬ শতাংশ) ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী, ২২৮ জন (২২ শতাংশ) ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ও ১৭৪ জন (১৭ শতাংশ) ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী।

আর ১৫০ জন (১৪ শতাংশ) ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সী ৭৪ জন (৭ শতাংশ) নারীর করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

আক্রান্তের সংখ্যার মত কোভিড-১৯ এ মৃতদের মধ্যেও পুরুষের সংখ্যা বেশি। মঙ্গলবার পর্যন্ত মারা যাওয়া একশ জনের মধ্যে ৭৬ জনই পুরুষ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আফতাবুল ইসলাম বলেন, “পুরুষরা ঘরের বাইরে বেশি যায়। সেটা চাকরির জন্য, ব্যবসার জন্য, উপার্জনের জন্য। আবার বাজার করতে এমনকি আড্ডা দিতেও অনেকে বাইরে বের হচ্ছেন এই লকডাউনের মধ্যে।

“বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের জন্য গণপরিবহনেও পুরুষদের উপস্থিতি বেশি। এসব কারণে মূলত কর্মজীবী বয়স সীমার পুরুষরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। পাশাপাশি ‍উপসর্গ নেই এমন আক্রান্ত পুরুষরা কর্মস্থলে বা জনসমাগমের স্থানে নিজের ও অন্যদের অজান্তেই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটাচ্ছেন।”

কোভিড-১৯ বিষয়ক স্বাচিপ গঠিত কমিটির বিভাগীয় সমন্বয়ক ডা. আ ন ম মিনহাজুর রহমান বলেন, “আপাত দৃষ্টিতে যা মনে হচ্ছে, লকডাউনের শুরুর দিকে এবং এখনও পুরুষরাই বেশি বাসা থেকে বের হয়েছেন। চট্টগ্রামের নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশি সময় ঘরে কাটান।

“এরপরও নারীদের মধ্যে যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের বেশিরভাগই পরিবারের পুরুষ সদস্যদের মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছেন। কর্মজীবী এবং কর্মজীবী নন এমন পুরুষরা স্বাস্থ্যবিধি কম মেনেছেন বলেই এই চিত্র দেখা যাচ্ছে।”

শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে কর্মজীবী বয়স সীমার পুরুষের সংখ্যা বেশি হলেও মারা যাওয়াদের মধ্যে বয়স্ক পুরুষের সংখ্যাই বেশি।

মারা যাওয়া ৭৬ জন পুরুষের মধ্যে ৩২ জন ৬১ বছরের বেশি বয়সী এবং ২২ জন ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়স সীমার মধ্যকার পুরুষ।

শতকরা হিসেবে যা মৃত পুরুষদের মোট ৭১ শতাংশ। যদিও শনাক্ত পুরুষদের মধ্যে এই বয়সসীমার রোগী আছেন মাত্র ২৩ শতাংশ।

বিপরীতে ২১ থেকে ৫০ বছর বয়সী পুরুষরা শনাক্তদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ হলেও তাদের মধ্যে মৃত ২২ জন (২৯ শতাংশ)।

প্রায় একই চিত্র নারীদের মধ্যেও। মারা যাওয়া ২৪ জন নারীর মধ্যে ৫ জন ৬১ বছরের বেশি বয়সী। আর ৮ জন ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়স সীমার মধ্যে। শতকরা হিসেবে যা মৃত নারীদের ৫৪ শতাংশ।

বিপরীতে ২১ থেকে ৫০ বছর বয়সী শনাক্ত নারীর ৬৫ শতাংশ হলেও মৃতদের মধ্যে ১১ জন (৪৬ শতাংশ) এই বয়সী।

ডা. আফতাবুল বলেন, “যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে অনেকেরই কো-মরবিডিটি মানে অন্যান্য রোগ যেমন হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ফুসফুসের সমস্যা বা অন্যান্য জটিল রোগ ছিল। যেসব রোগ একটু বয়স্কদের মধ্যেই তুলনামূলক বেশি হয়।”

নগরীতে শনাক্ত-মৃত সবই বেশি

জেলায় শনাক্তদের মধ্যে দুই হাজার ৯৯৪ জন (৭২ শতাংশ) নগরীর বাসিন্দা আর এক হাজার ১৭৩ জন (২৮ শতাংশ) ১৪টি উপজেলার বাসিন্দা।

মৃত একশ জনের মধ্যে ৮১ জনই নগরীর বাসিন্দা। এরমধ্যে পাহাড়তলি এলাকায় সর্বোচ্চ ৯ জন মারা গেছেন। এছাড়া হালিশহরে ৮ জন এবং কোতোয়ালী এলাকায় ৬ জন মারা গেছেন। আকবর শাহ ও খুলশিতে ৫ জন করে এবং দামপাড়ায় ৪ জন মারা গেছেন।

শনাক্তদের মধ্যে কোতোয়ালীতে সর্বোচ্চ ৩৭৯ জন, পাঁচলাইশে ২৬০, খুলশীতে ২৩৯ এবং হালিশহরে ২০০ জন শনাক্ত হয়েছে।

উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি লোহাগাড়া, পটিয়া ও সীতাকুণ্ডে তিন জন করে এবং রাঙ্গুনিয়া ও হাটাহাজারীতে দুই জন করে মারা গেছেন।

শনাক্তদের মধ্যে পটিয়ায় ১৮৭, হাটহাজারীতে ১৬৫, সীতাকুণ্ডে ১৪৩, বোয়ালখালীতে ১২৩ এবং চন্দনাইশ উপজেলায় ১১০ জন শনাক্ত হয়েছেন।

ডা. আ ন ম মিনহাজুর রহমান বলেন, “চট্টগ্রাম নগরী খুবই ঘনবসতিপূর্ণ। এখানে এক জায়গায় অনেক মানুষের বসবাস ও চলাচল। ভিড়ও বেশি। গ্রামে সেটা অনেক কম। আর গ্রামে পরীক্ষার পরিমাণও তুলনামূলক কম। তাই শনাক্তের সংখ্যা কম দেখা যাচ্ছে।”

 

  • [1]
  • [2]
  • [3]